রাগ নিয়ন্ত্রণে গাঁজার উপকারিতা, জানলে অবাক হবেন ...
গাঁজা এমন এক উদ্ভিদ যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে। অন্যান্য নেশাদ্রব্য ব্যবহার থেকে বাঁচতে বা মানসিক রোগের চিকিত্সাতেও গাঁজার ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাঁজা আসলে মন ও মস্তিষ্কে কী ঘটায়?বহু বিশেষজ্ঞের কাছে মারিজুয়ানা বা গাঁজা একধরনের ওষুধ। অনেক দেশে চিকিত্সার কাজে গাঁজার ব্যবহার হয় । এটা একটা উদ্ভিদ যা বিশেষ ধরনের মৃগীরোগের চিকিত্সায় ওষুধের কাজ করে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, গাঁজা সেবনের পরপরই টিএইচসি ফুসফুসের মধ্যে দিয়ে শোধিত হয়ে রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে শরীরের বিভিন্ন অংশে তথা মস্তিষ্কেও প্রবাহিত হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কতগুলো সুনির্দিষ্ট স্থান যা ক্যানাবিনয়েড রিসেপটর নামে পরিচিত যার সাথে THC এর সংযোগের ফলে ঐ কোষগুলি প্রভাবিত হয়ে ব্যক্তির আনন্দানুভূতি, স্মৃতি, চিন্তা, মনোযোগ, সংবেদন, সময় জ্ঞান এবং চলাচলের সমন্বয়ের ক্ষেেত্র সরাসরি পরিবর্তন আনে যা ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে|যদি গাঁজাকে খাদ্যের সংগে বা জলে গুলে নেয়া হয় তবে এর প্রভাব ধীরে ধীরে - সাধারণতঃ আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে শুরু হয় এবং তা ৪ঘণ্টার অধিক স্থায়ী হয়ে থাকে| নিকোটিনের পরিমান ৩৭℅.
গাঁজার ফুল
পুরুষের টেস্টিকুলার ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয় গাঁজা। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা সেবনে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় ক্যানসারের আশঙ্কা।
স্মৃতিশক্তি লোপ
গাঁজা সেবনকারীদের প্রায়ই নানা বিষয় ভুলে যেতে দেখা যায়। আর এর কারণ অন্য কিছু নয়, গাঁজার প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, গাঁজা সেবনকারীদের মস্তিষ্কে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। আর এ কারণে তাদের কিছু স্মৃতিও স্বল্পমেয়াদে হারিয়ে যায়। বেশি মাত্রায় গাঁজা সেবনে মস্তিষ্কের এ ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায়, যা আর কখনো ভালো হয় না।
সৃজনশীলতা
বহু মানুষেরই ধারণা গাঁজা সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। যদিও এ ধারণা ভুল বলেই জানাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা। এটি তাদের সৃজনশীলতা বাড়ায় না বরং কমিয়ে দেয়।
গাঁজা সেবনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেবনকারী ব্যক্তির হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ধমনীগুলি শিথিল হয়ে বেড়ে যায় এবং চোখের রক্ত প্রবাহের শিরাগুলি স্ফিত হয় যার কারণে চোখ লাল হয়। হৃত্স্পন্দন স্বাভাবিকের (মিনিটে ৭০-৮০বার) চেয়ে বেড়ে যায় কোন কোন সময় দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং গাঁজা যদি অন্য কোন মাদকদ্রব্যের সাথে নেয়া হয় তবে এর প্রভাব অনেক বেড়ে যায়। গাঁজা সেবনের প্রায় পরপরই THC ফুসফুসের মধ্য দিয়ে শোধিত হয়ে রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে কোষের মেদল অংশের মধ্যে সঞ্চিত হয়। তারপর সাধারণতঃ এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময়ের মধ্যে তা আবার রক্ত প্রবাহের সাথে মিশে যায়।মদ এবং ফেনসিডিল এর মতো জলে দ্রবণীয় কোন কোন মাদকদ্রব্য শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যায়। কিন্তু THC এর অবশিষ্টাংশ মেদ-কোষে থেকেই যায় এবং এর প্রতিক্রিয়া শেষ না হতেই আরো গাঁজা সেবন করলে ক্রমবর্ধমান প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যত বেশি মাত্রায় গাঁজা সেবন করা হবে - যত বেশি গাঁজা মিশ্রিত মাদক ধূমপান করা হবে - ততবেশি বিভ্রান্তিকর প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে এবং ততবেশি মনশ্চালক ক্রিয়ার ঘাটতি দেখা দেবে।
অল্প মাত্রায় সেবন করলেও সেবনকারীর মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম ঘটে। গাঁজা সেবীদের এইরূপ স্মৃতিভ্রম প্রায়ই ঘটে, তারা একটি সৃজনশীল জটিল বাক্য শুরু করে কখনো তা ভালোভাবে শেষ করতে পারেন না, অসংলগ্ন বা এলোমেলোভাবেই তা শেষ হয়। দীর্ঘদিন গাঁজা সেবন করলে বিশেষ করে মাঝে মাঝে অতিমাত্রায় সেবন করলে সেবনকারীর মধ্যে 'মস্তিষ্ক বিকার' কিংবা মনোবিকাররগ্রস্ততা দেখা দেয়, যা উন্মত্ততার শামিল। ব্যক্তি ক্রমে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে দৃষ্টি ও শ্রুতিগত হ্যালুসিনেশনে ভোগে। কখনো কখনো ব্যবহারকারীর মধ্যে দেহ নিরপে বিচ্ছিন্নতাবোধ অর্থাত্ নিজের পরিচিতি সম্পর্কে ধারণা হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় ৷





Comments
Post a Comment
please do not entr any spam link in comment box